রবিবার, ৫ জুন, ২০১১

হরতালে রাজনৈতিক সফলতা আসে না: সৈয়দ আশরাফ



আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম হরতালে সহিংসতা ও নাশকতার জন্য বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে এককভাবে দায়ী করেছেন। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, জনজীবন বিপর্যস্ত করে হরতালের নামে জ্বালাও-পোড়াও করলে জনগণ বাধ্য হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
আজ রোববার ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আরশাফ এসব কথা বলেন।
হরতালে পরিকল্পিতভাবে গানপাউডার দিয়ে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, হরতালে স্বতঃস্ফূর্ততা ছিল না। হরতাল পালনে বাধ্য করা হলে তাতে রাজনৈতিক সফলতা আসে না। আর এমন বিষয় নিয়ে তারা হরতাল ডেকেছে, যেখানে সরকার সরাসরি সম্পৃক্ত নয়।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিরোধী দল হরতাল ডাকেনি। খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলেদের দুর্নীতি মামলা, যা বর্তমান সরকার দেয়নি এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম ব্যাহত করতেই এ হরতাল দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ব্যাঘাত ঘটানো এবং দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করাও হরতাল ডাকার তাদের উদ্দেশ্য।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, বিএনপি এখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না। খালেদা জিয়া নিজেই বলেছিলেন, পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নন। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক নয়। খালেদা জিয়ার গতকাল শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কম কথা হয়েছে—যতটা হয়েছে তাঁর বাড়ি, মামলা ও ছেলেদের দুর্নীতি মামলা নিয়ে।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও সংসদীয় কমিটিতে বিএনপি কোনো প্রতিনিধি দেয়নি। তাদের প্রতিনিধি থাকলে আজ এই সংকট হতো না। তিনি বলেন, সরকারের একতরফাভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা থাকলে সংসদীয় কমিটি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে এত ব্যাপকভাবে আলোচনা করত না। বিরোধী দল প্রতিনিধি না পাঠালেও লিখিত প্রস্তাব পাঠাতে অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সেটাও তারা করেনি। তা ছাড়া কমিটি এখনো সংসদে প্রতিবেদন পেশ করেনি। কিন্তু তার আগেই তারা হরতাল ডেকেছে।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, খালেদা জিয়া সম্প্রতি লন্ডন ও যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অনেকের সঙ্গেই সাক্ষাত্ করার চেষ্টা করেছেন। এ জন্য হাজার হাজার ডলার খরচ করে লবিস্টও নিয়োগ করেছেন। কিন্তু উল্লেখযোগ্য কারও সঙ্গে তিনি সাক্ষাত্ করতে পারেননি। যাঁদের সঙ্গে তিনি সাক্ষাত্ করেছেন, তাঁদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতারাই সাক্ষাত্ করতে পারেন। এতে প্রমাণ হয়, বিএনপির মৌলবাদী রাজনীতি, ধর্মের নামে জঙ্গিবাদী রাজনীতির স্থান পৃথিবীর কোথাও নেই।
এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, আইনের শাসনে বিশ্বাস করলে আদালতের রায় মানতে হবে। সরকার বা বিরোধী দল আদালতের রায় না মানলে সভ্যসমাজ চলতে পারে না। আইনের শাসনের মাধ্যমেই সভ্যসমাজ সৃষ্টি হয়েছে।
সৈয়দ আশরাফ আরও বলেন, ‘এখনো বিশ্বাস করি, সর্বসম্মতভাবে সংসদ একটা উপায় বের করবে, যাতে আগামীতে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়। আর যদি তাঁরা না-ই আসেন, তবে সংসদ অবশ্যই কাজ করবে। এ ছাড়া কোনো উপায় নেই।’

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন