রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গতকাল যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বাংলামোটর এলাকা থেকে তোলা
ছবি প্রথম আলো
এদিকে হরতালের আগের দিন গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ১১টি যাত্রীবাহী বাস ও একটি ট্যাক্সিক্যাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ এসব অগ্নিসংযোগের দায়িত্ব স্বীকার করেনি।
গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ বলেন, হরতাল চলাকালে রাজধানীতে সব ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করবে পুলিশ। কেউ শান্তি বিনষ্ট করার মতো কিছু করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, সংবাদপত্রবাহী গাড়ি, খাবার ও ওষুধের দোকান, হাসপাতালসহ যেসব এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হচ্ছে, সেসব এলাকা হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।
হরতালের সমর্থনে গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি ও জামায়াত। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও মিরপুরে বিএনপির হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর হরতালের সময় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহন বন্ধ রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি গত রাতে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, সরকারি দলের ক্যাডাররা বিএনপির নেতা-কর্মীদের নানা রকম ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
বিএনপির অভিযোগ, গত প্রায় আড়াই বছরে সরকারের ব্যর্থতার কারণে কারচুপি ছাড়া নির্বাচনে আর জয়লাভ করা সম্ভব নয়, এটা তারা বুঝে গেছে। এ কারণেই তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের ষড়যন্ত্র করছে।
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম গতকাল এক যুক্ত বিবৃতিতে দেশবাসীকে হরতাল সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
হরতালের সমর্থনে ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী কাকরাইল মোড় থেকে মিছিল বের করে, মৌচাক মোড়ে গিয়ে তা শেষ হয়।
সমমনা দলের সমর্থন: গতকাল সকালে নয়াপল্টনে সমমনা ছোট ১২টি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে দেখা করে হরতাল কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তাঁরা হরতালে মাঠে থাকারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
দলগুলোর মধ্যে আছে: ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, যুব-ন্যাপ বাংলাদেশ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, লেবার পার্টি, ন্যাপ-ভাসানী ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন শরিক দলগুলো পৃথকভাবে হরতাল কর্মসূচির প্রতি নিজেদের সমর্থন জানিয়েছে। তবে তারা যুগপৎভাবে হরতাল পালন করবে। আপাতত জোটগতভাবে কোনো কর্মসূচি পালিত হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শরিক দলের নেতারা।
পুলিশের অবস্থান: হরতাল চলাকালে রাজধানীতে যেকোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ।
গতকাল দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুঁশিয়ারি জানান। এ সময় মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ কমিশনার বলেন, কেউ কেউ হরতালের আগের রাতে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, ভয়ভীতি দেখানোর মতো ঘটনা ঘটায়। এসব ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য পুলিশ গতকাল দুপুর থেকে সব ধরনের কার্যক্রম শুরু করেছে। হরতালের আগে ও হরতাল চলাকালে কেউ নাগরিক-নিরাপত্তা ব্যাহত ও শান্তি বিনষ্ট করার মতো কাজ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
হরতালের দিন বাস চলাচলের বিষয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, সড়কে কেউ বাস না চালালে সেটা ওই বাসের মালিক ও চালকের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে বাস চলাচল করলে পুলিশ সার্বিক নিরাপত্তা দেবে।
গাড়িতে অগ্নিসংযোগ: রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গতকাল ১১টি যাত্রীবাহী বাস ও একটি ট্যাক্সিক্যাবে আগুন ধরানোর ঘটনা ঘটেছে। যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্র জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরের কাছে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় একই সময় আজিমপুর, বাংলামোটর এবং ফকিরাপুলে তিনটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া রাত আটটার দিকে মহাখালী, কাঁটাবন, কাপ্তানবাজার ও কমলাপুর এলাকায় চারটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রাত নয়টার দিকে জুরাইনে ও মোহাম্মদপুর আসাদগেট এলাকায় দুটি বাস এবং খিলক্ষেত এলাকায় একটি ট্যাক্সিক্যাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর দেড় ঘণ্টা পর মগবাজার রেলক্রসিং এলাকায় একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন