ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্তত ছয়জন নারীবন্ধুর কাছে তিনি তাঁর অর্ধনগ্ন ছবি পাঠিয়েছেন। এসব নারীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। গত সোমবার নিউইয়র্কে জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে এভাবে নিজের সব দোষ স্বীকার করেন মার্কিন কংগ্রেসের প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা অ্যান্টনি ওয়েইনার।
নিউইয়র্ক থেকে ছয়বার নির্বাচিত হয়েছেন ওয়েইনার। কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ায় এখন তিনি তোপের মুখে। নিজের লজ্জাকর কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও ওয়েইনার পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন।
ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা অ্যান্টনি ওয়েইনারকে নিউইয়র্ক নগরের ‘ভবিষ্যৎ মেয়র’ বলে মনে করা হতো। নির্বাচনী এলাকায় তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তা। তিন বছর আগে বিয়ে করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হুমা আবেদিনকে।
গত সপ্তাহে ইন্টারনেটে প্রথম ওয়েইনারের একটি অর্ধনগ্ন ছবি প্রকাশিত হয়। টুইটারের মাধ্যমে নারীবন্ধুকে নিজের অশালীন ছবি পাঠানোর বিষয়টি প্রথমে তিনি অস্বীকার করেন। প্রথমে সাংবাদিকদের ওয়েইনার বলেন, তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক’ করা হয়েছে। অন্য কেউ এই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তাঁর ছবি ছেড়েছে। নিজে থেকে বিষয়টি তদন্ত করার ঘোষণা দেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমে এক সপ্তাহ ধরে এই সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে। গত সোমবার সকাল থেকে রক্ষণশীল ওয়েবসাইট ‘বিগ গভর্নরমেন্ট ডট কম’-এ ওয়েইনারের নতুন নতুন অর্ধনগ্ন ছবি প্রকাশ হতে থাকে। একপর্যায়ে বিকেল চারটার দিকে প্রভাবশালী এই কংগ্রেসম্যানের সব রক্ষাব্যূহে যেন ধস নামে। নিজের কৃতকর্মের জন্য সংবাদ সম্মেলন ডেকে সবার সামনে তিনি অঝোরে কাঁদতে থাকেন। নিজের স্ত্রী, সহকর্মীসহ সংবাদমাধ্যমকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার জন্য তিনি অনুশোচনা প্রকাশ করেন। তবে অশ্লীল ছবিবিনিময়ে সরকারি কম্পিউটার বা কার্যালয় ব্যবহার করেননি বলে পদত্যাগ করবেন না বলে ওয়েইনার ঘোষণা দেন।