রবিবার, ৫ জুন, ২০১১

তত্ত্বাবধায়ক বাতিল হলে টানা আন্দোলন


সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া
শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন খালেদা জিয়া সমকাল

মহাজোট সরকারকে পদত্যাগ করে অবিলম্বে মধ্যবর্তী নির্বাচন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বহাল রাখার দাবিতে টানা কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, সরকারের পদত্যাগের পর আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব পক্ষের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে। একইভাবে গঠন করতে হবে একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন। সে সরকার ও কমিশনের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তারাই দলীয়করণকৃত প্রশাসনকে ঢেলে সাজিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করবে। একইসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী বিতর্কিত এ রায়ের ছুতা ধরে বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল রাখার কোনো সুযোগই নেই। কোনো সুযোগই যদি না থাকে তাহলে বিরোধী দলের মতামত দিয়ে লাভ কী পাল্টা প্রশ্ন রাখেন তিনি।
গতকাল শনিবার বিকেলে গুলশান কার্যালয়ে জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলে সরকারের অবস্থানের বিপরীতে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলকে সংসদে এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে বিকল্প ফর্মুলা থাকলে তা উত্থাপন করার আহ্বান জানান। এর আগে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ত্রয়োদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাখার কোনো সুযোগ নেই। জবাবে অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলে দেশে গভীর সংকটের আশঙ্কা ব্যক্ত করে খালেদা জিয়া বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিএনপি কোনো
দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন মেনে নেবে না। ব্যর্থ সরকার পদত্যাগ করে মধ্যবর্তী নির্বাচন না দিলে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের অপচেষ্টা থেকে বিরত না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আগামীতে তারা আরও কঠোর ও টানা আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলে জানান তিনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সরকার আড়াই বছরে কোনো ক্ষেত্রেই সামান্যতম সাফল্য দেখাতে পারেনি। বরং ব্যর্থতার পর্বতের নিচে চাপা পড়ে এখন তারা মিথ্যাচার, অত্যাচার ও ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হয়তো বুঝতে পারছেন, দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তার ফল কী দাঁড়াবে। মানুষের হতাশা ও ক্ষোভ যে এখন ক্রোধে পরিণত হচ্ছে সে কথাও তার না বোঝার কথা নয়। এ শোচনীয় পরাজয় এড়াতে প্রধানমন্ত্রী এখন নিজে ক্ষমতায় থেকে সংসদ নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছেন। তারা এও জানেন যে, ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করার স্বপ্ন পূরণ না হলে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) চাইবেন তার অনুগত সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে প্রধান করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে। আর তিনি নির্ভর করবেন তথাকথিত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ওপর।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা বাতিল করার ব্যাপারে দেশের জনগণের কাছ থেকে কোনো অনুমোদন এ সরকার নেয়নি। কাজেই আদালতের রায় কিংবা অন্য কোনো অজুহাতে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের আয়োজন দেশবাসী মানবে না, তারাও মেনে নেবেন না।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আরএ গনি, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল হক মিয়া, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এমএ কাইয়ুম, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিএনপি ইতিমধ্যেই ব্যর্থ সরকারের পদত্যাগ ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের সূচনা করেছে। তারা মনে করেন, এ সরকার যত বেশি দিন ক্ষমতায় থাকবে দেশ ও জাতির তত বেশি ক্ষতি হতে থাকবে। তাই সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি করেছেন তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগের বিরুদ্ধে এবং জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় বিএনপি রোববার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে। এ হরতাল কোনো ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে নয়। এ হরতাল জাতীয় স্বার্থে। এ হরতাল জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য।
রোববারের হরতাল সফল করতে সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারের তরফ থেকে জনগণের আন্দোলনের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি ও আটক করা হচ্ছে। আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং হয়রানি ও গ্রেফতার বন্ধের দাবি জানান তিনি। হরতাল চলাকালে কোনো ধরনের নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধেও তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
খালেদা জিয়া বলেন, এ হরতাল দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংকট, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি রোধ এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থ, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও শেয়ারবাজার রক্ষায় ব্যর্থ সরকারের পদত্যাগের মাধ্যমে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার তুলে দেওয়ার কথা আওয়ামী লীগ বলছে আপিল বিভাগের একটি রায়ের ধুয়া তুলে। এ প্রসঙ্গে আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার_ সংবিধান সংশোধনের সম্পূর্ণ এখতিয়ার জনগণের নির্বাচিত সংসদের, কোনো আদালতের নয়। কাজেই সংবিধান সংশোধনের জন্য কোনো আদালতের কোনো রায়ের বাস্তবায়ন পার্লামেন্টের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, অতীতে উচ্চ আদালতকে বিভক্ত করার বিরুদ্ধে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের দেওয়া রায় ছিল আইনজীবী সমাজ, আন্দোলনকারী সব রাজনৈতিক দল ও সমাজশক্তির আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। কাজেই সে রায়টির বাস্তবায়ন জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই হয়েছিল। এবারকার ঘটনা সম্পূর্ণ বিপরীত। সংবিধান সম্পর্কে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের দেওয়া আলোচ্য রায়টি সর্বসম্মত নয়। বিচারপতিরাই এ রায়ের ব্যাপারে একমত হতে পারেননি।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আলোচ্য রায়টি জনগণের ব্যাপক অংশের দ্বারা তুমুল সমালোচিত হচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ এ রায় মেনে নিতে পারেননি। বিতর্কিত এ রায়টি আইন ও সংবিধানসম্মত নয়। পরস্পরবিরোধী, দুর্বল, যুক্তিহীন ও বিতর্কিত। যে সাবেক প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে এ রায় দেওয়া হয়েছে তিনি ইতিমধ্যে নানা প্রশ্নবোধক কর্মকা ের জন্য বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী সম্মানিত নাগরিক প্রফেসর ড. ইউনূস, এমন কি বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তিনি নিজে তার কাছ থেকে কোনো ন্যায়বিচার পাননি।
খালেদা জিয়া বলেন, মুন সিনেমা হলের মালিকানা সংক্রান্ত একটি মামলার রায়ে এ বিচারপতি সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করেন। চরম বিভ্রান্তিকর এ রায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রতিফলন ঘটেছে। প্রতিটি ছত্রে ফুটে উঠেছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বিএনপি সম্পর্কে চরম বিরূপ মনোভাব। আওয়ামী লীগের প্রতি অনুরাগ ও বিএনপির প্রতি বিরাগের বশবর্তী হয়ে যে তিনি এ রায় দিয়েছেন তা বুঝতে কারও অসুবিধা হয় না। অর্থাৎ তিনি কোনোভাবেই নিরপেক্ষ নন। এ বিতর্কিত বিচারপতিকে পদোন্নতি দিতে আওয়ামী লীগ সরকারকে আপিল বিভাগের সদস্য সংখ্যা সাত থেকে বাড়িয়ে এগারো জন করতে হয়েছিল।
তিনি বলেন, দু'জন যোগ্য ও দক্ষ বিচারপতিকে ডিঙ্গিয়ে তাকে বর্তমান সরকার প্রধান বিচারপতি করেছিল। কাজেই, জনগণের সামনে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, সরকারের জন্য সুবিধাজনক ও মনমতো রায় পাওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে নানাভাবে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। সরকারের অনুগ্রহভাজন এ ধরনের বিচারপতির রায়ের ছুতা ধরেই আজ সংবিধান বদল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা চলছে। এ বিতর্কিত রায়ের একটি অংশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান আরও দুই মেয়াদ বহাল রাখা যাবে বলে যে মত দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার এখন সেটিও এড়িয়ে যেতে চাইছে।
ডিজিটাল কারচুপির ষড়যন্ত্র চলছে অভিযোগ করে বিরোধী নেতা বলেন, সংবিধান সংশোধনের নামে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান তুলে দেওয়ার ঘোষণার বিরুদ্ধে প্রতিটি সচেতন মানুষ ইতিমধ্যেই সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। কেবল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তুলে দেওয়াই নয়, তথাকথিত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের নামে প্রধানমন্ত্রী মেকানিক্যাল বা ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমে জনগণের ভোটের রায় পালটে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার এবং তাদের ভোট নিয়ে জাল-জালিয়াতির অপচেষ্টা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা প্রতিহত করব ইনশাহ্আল্লাহ।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশবাসী পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচনকেও প্রহসনে পরিণত করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সব দল নিষিদ্ধ করে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল। বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একদলীয় স্বৈরশাসন প্রবর্তন করেছিল। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে পছন্দের সরকার বেছে নেওয়ার যে অধিকার জনগণের ছিল, তা কেড়ে নিয়েছিল। নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের সব পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিল। আজ আবার তারা সেই একই পথ অবলম্বন করছে।
খালেদা জিয়া বলেন, আজ আবার শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের সব পথ রুদ্ধ করে দেওয়ার যে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে তার পরিণাম ও পরিণতি সম্পর্কে সরকারকে সতর্ক করা হচ্ছে। তিনি আশা করেন, সময় থাকতে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।
সরকার দেশকে আবারও এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে দাবি করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তারা এ সংকট চাননি বলেই চরম বিতর্কিত নির্বাচনের ফল মেনে নিয়ে প্রথম দিনেই তারা সংসদে যোগ দেন। সরকারকে তারা ভালো কাজে সহযোগিতার কথা বলেন। গত প্রায় আড়াই বছরে প্রমাণ হয়ে গেছে, এ সরকার কেবল অযোগ্য ও ব্যর্থই নয়, তারা চরম হঠকারীও বটে।
তিনি বলেন, দশ টাকা কেজি দরে চাল, ঘরে ঘরে চাকরি, ফ্রি সারসহ জনগণকে দেওয়া চটকদার ওয়াদাগুলোর একটাও তারা পূরণ করেনি। জনগণের কল্যাণের কোনো চিন্তা তাদের নেই। তারা ব্যস্ত দলীয় ও ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের কাজে। জাতীয় স্বার্থ তারা রক্ষা করতে পারেনি। বিদেশি প্রভুদের কাছে দেওয়া গোপন অঙ্গীকার তারা পূরণ করে চলেছে একের পর এক। এ সরকারের লোকেরা এবং তাদের আত্মীয়স্বজন লুটপাট করে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করছে। তাদের দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের কথা কেউ বললেই জেল-জুলুম, হামলা-মামলায় তার কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন হীনপন্থায় তারা হরণ করেছে সংবাদ-মাধ্যমের স্বাধীনতা।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৯৩ সাল থেকে জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের নামে দেশজুড়ে কী ভয়ঙ্কর নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল। সেই আওয়ামী লীগ এখন বলছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো প্রয়োজন নেই।
প্রশ্নোত্তর
ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টির জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা দায়ী_ প্রধানমন্ত্রীর এ অভিযোগ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, ওয়ান-ইলেভেন ছিল দীর্ঘদিনের ষড়যন্ত্রের ফসল। এর পেছনে আওয়ামী লীগ জড়িত ছিল। ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই দেশের ওই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক নেই।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার সমস্যা সমাধানে সরকারি দলের সঙ্গে বিএনপি আলোচনায় বসবে কি-না জানতে চাইলে খালেদা জিয়া বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই। সংবিধানের বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল রাখলে সব সমস্যার সমাধান হবে।
দুই নেত্রী উচ্চ আদালতের রায়ের অপেক্ষায় না থেকে তত্ত্বাবধায়ক সম্পর্কে অবস্থান নিয়েছেন_ ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের এ বক্তব্য সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান খালেদা জিয়া। এ সময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এটা তার ব্যক্তিগত মতামত।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বর্তমানে যে মেয়াদ রয়েছে তারা সে মেয়াদেই রাখার পক্ষে। বড় দুই দল পরস্পরকে ছাড় দেওয়া সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এখানে ছাড় দেওয়া বা না দেওয়ার কিছু নেই। দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করতেই এ হরতাল আহ্বান করা হয়েছে।
সংসদে যোগ দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে বক্তব্য তুলে ধরা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, সংসদে কথা বলার সুযোগ নেই। তাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশে তারা দলীয় অবস্থান তুলে ধরছেন।
দেড় ঘণ্টা পর সংবাদ সম্মেলন শুরু : প্রথমে খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা ছিল বিকেল ৫টায়। পরে বলা হলো, বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হবে। তাও হয়নি। অবশেষে শুরু হলো সন্ধ্যা ৬টা ২৬ মিনিটে। অবশ্য ৬টা ২৪ মিনিটে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েই দেরির জন্য সাংবাদিকদের কাছে 'দুঃখ প্রকাশ' করলেন খালেদা জিয়া। বললেন, শ্রমিক দলের কাউন্সিল থেকে আসতে তার দেরি হয়ে গেছে।
শ্রমিক দলের কাউন্সিলে খালেদা : বিকেলে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে শ্রমিক দলের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ সময় খালেদা জিয়া বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। বিকল্প কোনো পদ্ধতি মেনে নেবেন না তারা। তার দাবি, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় হরতাল দেওয়া হয়েছে।
'আগামীকালের (রোববার) হরতাল দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার' বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আপনারা এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে অনেক হরতাল দিয়েছেন, জানমালের ক্ষতি করেছেন। সেসব তো ফিরিয়ে দিতে পারবেন না। তা না পারলে তত্ত্বাবধায়কের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে।'
দীর্ঘ আট বছর পর শ্রমিক দলের এই ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ৬৮টি সাংগঠনিক জেলার কাউন্সিলররা অংশ নিয়েছেন। ৬ জুন সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।
এর আগে ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে শ্রমিক দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই কাউন্সিলে নজরুল ইসলাম খান সভাপতি ও জাফরুল হাসান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, এম মোরশেদ খান, রাজিয়া ফয়েজ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, আবদুল হালিম, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি প্রমুখ।
খালেদা জিয়া বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্রের নামে চরম স্বৈরতন্ত্র চলছে। কথায় কথায় আদালতকে ব্যবহার করা হচ্ছে। আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে সব কাজ করা হচ্ছে। আসলে সরকারের নির্দেশ পালন করছেন আদালত।  

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন