পাকিস্তান দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি নির্মূলে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। গত বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি এ কথা বলেন। নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর তালেবান জঙ্গিদের সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার ঘটনায় দেশটির সরকার এখন কঠোর সমালোচনার মুখে। এ পরিস্থিতিতে সরকার জঙ্গি নির্মূলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এ ব্যাপারে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা জানানো হয়নি।
নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য গত বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার প্রতিরক্ষা কমিটির এক বৈঠক ডাকেন। এতে মন্ত্রিসভার সদস্য, সেনা, নৌ, বিমান ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন। একই দিন পেশোয়ারে একটি শক্তিশালী ট্রাকবোমা হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ছয় সদস্যসহ নয়জন নিহত হয়। এতে একটি থানার ব্যাপক ক্ষতি হয়।
সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহতা মোকাবিলায় সামর্থ্যের বিষয়টি যে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা স্বীকার করেন গিলানি। তবে ওই বৈঠকের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট কৌশল ব্যক্ত করা হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসী ও জঙ্গি নির্মূলে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে।
আফগান সীমান্তসংলগ্ন এলাকার দিকে ইঙ্গিত করে বিবৃতিতে বলা হয়, যথাযথ সব পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারের সব আইন প্রয়োগকারী শাখা এটি নিশ্চিত করবে যে, ওই এলাকায় সন্ত্রাসীদের সব আস্তানা ধ্বংস হয়েছে।
পাকিস্তান থেকে সেনা হ্রাসের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান থেকে তাদের সেনা হ্রাসের পরিকল্পনা করছে। মার্কিন সেনা হ্রাসে ইসলামাবাদের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়। গত বুধবার মার্কিন সামরিক বাহিনী এ কথা জানিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল ডেভ ল্যাপান বলেন, ‘আমরা সম্প্রতি লিখিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছি, পাকিস্তানে মার্কিন সেনাসংখ্যা কমিয়ে আনতে দেশটির সরকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা সেনা হ্রাসের পরিকল্পনা করছি।’
পেন্টাগন জানায়, দুই সপ্তাহ আগে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছে, তাদের মার্কিন বিশেষ বাহিনীর প্রশিক্ষকদের দরকার নেই। এ ছাড়া তাঁরা পাকিস্তানে থাকলে সহায়তার পরিবর্তে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এ প্রশিক্ষকেরা পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পাকিস্তানে কতজন মার্কিন সেনা কর্মকর্তা আছেন, সেটা দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী জানায়নি। তবে ল্যাপান বলেছেন, এ সংখ্যা ২০০ থেকে ৩০০-এর মধ্যে।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার তিন দিন পর মার্কিন সেনা হ্রাসের অনুরোধ করার ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২ মে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে অ্যাবোটাবাদের একটি বাড়িতে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর একচেটিয়া অভিযানে নিহত হন বিন লাদেন। রয়টার্স, এএফপি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন