সরকার-নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় অব্যাহত রেখেছেন রাজধানীর বাসমালিকেরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুরে বাড়তি ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে বাসশ্রমিকদের সঙ্গে যাত্রীদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। এর জের ধরে সকালে ওই এলাকায় কিছুক্ষণ বাস চলাচল বন্ধ ছিল। রাজধানীর অন্য কয়েকটি স্থানেও বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বাসশ্রমিকদের বিবাদ হয়েছে।
ইউনাইটেড পরিবহনে আগারগাঁও তালতলা থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ১৩ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এই পরিবহনের মিনিবাসগুলো পল্লবী থেকে সদরঘাট পর্যন্ত যায়। শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মিরপুর ১০ নম্বর থেকে উঠে ফার্মগেট এলেও যাত্রীদের পল্লবীর টিকিট কাটতে হয়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী তালতলা থেকে ফার্মগেটের দূরত্ব তিন কিলোমিটার। সরকার মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ঠিক করেছে পাঁচ টাকা। এই পথের দূরত্ব সর্বনিম্ন ভাড়ার মধ্যেই পড়ে।
সর্বনিম্ন ভাড়া দিয়ে একজন যাত্রী মিনিবাসে ৩ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার যেতে পারবে। বড় বাসে যেতে পারবে সাড়ে চার কিলোমিটার।
তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া প্রথম দুই কিলোমিটারের জন্য পাঁচ টাকা। বিআরটিসির বাসে পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের জন্য ভাড়া এক টাকা ৫৫ পয়সা।
মিরপুরে হাতাহাতি: সকাল আটটার দিকে পরিবহনশ্রমিকেরা মিরপুর পল্লবী থেকে যাত্রাবাড়ী রুটের বেশির ভাগ বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। শিকড় পরিবহন, সিল্কসিটিসহ বেশির ভাগ পরিবহন কোম্পানির শ্রমিকেরা রাস্থায় নেমে এসে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এতে যাত্রীরা বিড়ম্বনায় পড়ে। যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও পুলিশের অবস্থানের কারণে ১২ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে জটলা তৈরি হয়।
শতাধিক শ্রমিক ১২ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নিলে ওই স্থানে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। শ্রমিকদের কিছু অংশ ট্রাফিক পুলিশের সামনেই স্লোগান দিয়ে অন্যান্য বাস চলাচলে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। শ্রমিকেরা অভিযোগ করেন, যাত্রীরা তাঁদের মারধর করেছে। ট্রাফিক পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সকাল সাড়ে আটটার দিকে শিকড়, সিল্কসিটিসহ বেশ কটি পরিবহন কোম্পানির মালিকপক্ষের লোকেরা ঘটনাস্থলে আসেন। যাত্রীদের কয়েকজন বাসমালিকদের সামনে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার তালিকায় মিরপুর থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ভাড়া ২৫ টাকা হলেও আদায় করা হচ্ছে ২৮ টাকা। এ ছাড়া সর্বনিম্ন ভাড়া পাঁচ টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকা।
শিকড় পরিবহনের শ্রমিক মোখলেস পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, প্রতিটি বাসে শ্রমিক থাকেন দুই থেকে তিনজন। যাত্রী থাকে ৪০ থেকে ৫০ জন। বাসভাড়া বাড়ানোর পর থেকে বেশির ভাগ যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া দিতে চাইছে না। এ নিয়ে যাত্রীরা একজোট হয়ে পরিবহন শ্রমিকদের মারধর করছে। গতকাল সকালে এ রকম কয়েকটি বাসে শ্রমিকদের মারধর করায় তাঁরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেন।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, যাত্রীদের সঙ্গে বাগিবতণ্ডার ঘটনায় কিছুক্ষণ বাস চলাচল বন্ধ ছিল। তবে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে কিছুক্ষণের মধ্যে পুনরায় বাস চলাচল শুরু হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত: গতকাল রাজধানীতে বাসে বাড়তি ভাড়া আদায় রোধে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ৮১টি বাসের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এসব মামলায় জরিমানা আদায় হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। পাঁচটি বাস জব্দ করা হয়।
শাহবাগ, গাবতলী, মিরপুর, তেজগাঁওসহ ছয়টি স্থানে এসব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। ছয়টি আদালতের মধ্যে বিআরটিএর দুটি এবং ঢাকা জেলা প্রশাসন পরিচালনা করে চারটি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন